শুভ জন্মদিন রূপালী বাংলাদেশ
স্বপ্না চৌধুরী
ডিআরইউ এর সদস্য পদ বা নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিল বিষয়ে এ পর্যন্ত যত মানুষের পরামর্শ এবং শান্তনা শুনেছি তার মধ্যে সেদিনেরটা ছিলো সেরা। আমার মারাত্মক রকমের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন দিয়ে আমাকে শান্তনা দিয়ে বললো, স্বপ্না, গণ-অভ্যুত্থানের সময় আপনার ছোট বোন (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) সরব ছিলো। আর আপনিও ৫ আগস্টে রাস্তায় মানুষের আনন্দ-উল্লাস নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাই আওয়ামী লীগের লোকজন আপনাকে আর বিশ্বাস করছে না। বিএনপির লোকজন আপনাকে ওন করে না। আর জামায়াতের সমর্থকরা আপনাকে চায় না। আমি মনে মনে হাসলাম। হাজার মাইল লিখেও যেটা বলতে এখনো সংকোচ লাগতো তার এক বক্তব্যে নিজেকে সফল সাংবাদিক হিসেবে গর্বিত অনুভব করলাম।
আমার ছোট বোন কখন রাস্তায় নেমেছে? এটা ছিলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। সে যখন দেখলো তার সহপাঠী রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা গেছে তখনি সে প্রতিবাদ করেছে। এবং এটি আমিই শিখিয়েছি তাকে। কিভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আমার বিশ্বাস আজ যদি রাস্তায় আমার গায়েও গুলি লাগে দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিক ভাই-বোন আমার জন্য লড়বে। এবং এটাই সত্যি। গত বছরের ৫ আগস্টের আগের ভয়াবহ দিন-রাতগুলোতে বাইকে করে পুরো ঢাকা শহর চড়ে বেড়িয়েছি। তাই আমি দেখেছি হাজারো লাশ। যা দেখছিলাম ভোরের কাগজে থাকতে ২০১৪-১৫ রাজনৈতিক দলগুলোর জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে। ওই সময়টায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পড়ে থেকেছি দিনের পর দিন। মানুষ পোড়ার গন্ধ সইতে না পেরে হয়েছি এ্যাজমার রোগী। প্রতিটি প্রতিবেদনে ছিলো সত্য আর নিষ্ঠা।
ভোরের কাগজ ছিলো আওয়ামীলীগের নেতার মালিকানাধীন পত্রিকা। তারপর গেলাম বিএনপির মালিকানাধীন আরেকটা পত্রিকায়। সেখানেও প্রফেশনালিজমের কোনো ঘাটতি না থাকায় সফলভাবে পত্রিকার শেষদিন পর্যন্ত কাজ করেছি। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গেলাম আরেক পত্রিকায় যার মালিক কোন দলের সমর্থক ছিলো তা কিছুদিন আগে জানা গেছে। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে গেলো জামায়াত সমর্থিত মালিকানাধীন আরেকটি পত্রিকা। জনকণ্ঠে যোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কাটিয়েছি আনন্দ-বেদনার প্রতিটা মুহুর্ত। তবে বর্তমানের কর্মস্থল রূপালী বাংলাদেশের মতো এমন নির্দলীয় মনোভাবের পত্রিকায় কাজ করার সুযোগ খুব কম পেয়েছি। তথ্য-প্রমাণ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন করেছি আর মালিকপক্ষ থেকে সেটি আটকানো হয়েছে গত ৬ মাসে এমন নজির নেই। আগামীকাল সেই পত্রিকার প্রথম বর্ষপূর্তি। মনটা খুব খারাপ থাকলেও আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণে কোনো কমতি থাকবে না। রূপালী বাংলাদেশের সব পাঠককে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা… সত্যের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর..শুভ জন্মদিন রূপালী বাংলাদেশ।
Leave a Reply