1. admin@dailybdfreepress.com : admin :
July 15, 2026, 3:56 pm
Title :
মানবজাতির আলোকবর্তিকা পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরী চাহার সোম্বা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী দেশে ১০১টি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: গৃহায়ন মন্ত্রী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধ র্ষ ণ : সাইফুরের মৃ ত্যু দ ন্ড, তিনজনের যা ব জ্জী ব ন যে কারণে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ে সতর্কতা জরুরি পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা কমিটির সভা বুধবার নিজেরা ঠিক না রাখলে, অন্য কেউ এদেশ ঠিক করে দেবে না: প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষা অবৈতনিক ও স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃ ত্যু বেড়ে ৫৪

নবীজির জীবনে জুহদ

  • Update Time : শনিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
  • 221 Time View

নবীজির জীবনে জুহদ

হাফেজ মাওলানা আল আমিন সরকার

 

আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য, আর দুনিয়াকে বানিয়েছেন মানুষের জীবনযাপনের উপযোগী করে। বিশুদ্ধ বায়ুর জন্য অসংখ্য উদ্ভিদ, খাদ্যের জন্য নানান ধরনের ফল-ফসল, উপভোগের জন্য পাহাড়পর্বত, নদীনালা এবং সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রকৃতির অগণিত নিদর্শন তিনি সৃষ্টি করেছেন। আকাশে মেঘ এনে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন- যাতে মানুষ পান করে জীবনধারণ করতে পারে। এসব কিছুর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটিই শিক্ষা- মানুষ যেন এসব নিয়ামতের মাধ্যমে তার স্রষ্টাকে চিনে নেয়, তাঁর আনুগত্য করে এবং কৃতজ্ঞ হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মানুষ স্রষ্টাকে ভুলে স্রষ্টার সৃষ্টি জড় বস্তু, সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। প্রয়োজন পূরণের জন্য পরিশ্রম করা স্বাভাবিক; কিন্তু মানুষ আজ এমন কিছুর পেছনেও ছুটছে, যা তার প্রয়োজনই নয়। জীবন যৌবন দুনিয়ার মোহে নষ্ট করছে, আবার হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে সম্পদ ব্যয় করছে, যেন নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে। আমরা যেন ভুলেই গিয়েছি অমোঘ সেই সত্য আল্লাহ প্রতিটি হাফেজ মাওলানা আল আমিন সরকারমানুষের রিজিক নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। কিন্তু মানুষ সেই নির্ধারিত রিজিক নিয়ে সন্তুষ্ট না থেকে মরীচিকার মতো ক্ষণস্থায়ী জিনিসের পেছনে ছুটছে।

অথচ মানুষ দুনিয়াতে মুসাফির। একজন পথিক গাছের নিচে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে যেমন আবার যাত্রা শুরু করে, তেমনই দুনিয়া শুধু সফরের বিরাম; গন্তব্য নয়। মানুষ যখন দুনিয়ার মোহে ডুবে যায়, তখন সে রবকে ভুলে সীমা লঙ্ঘন করে বসে। অথচ দুনিয়ার সৌন্দর্য, সম্পদ ও ভোগবিলাস সবই পরীক্ষা। এগুলো কখনো জীবনের আসল লক্ষ্য হতে পারে না। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আসল লক্ষ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দুনিয়ার যেসব জাঁকজমক সামগ্রী কিছু লোককে পরীক্ষা হিসেবে দিয়েছি, তুমি তার দিকে লোভের দৃষ্টিতে তাকিও না। তোমার রবের দেওয়া রিজিকই উত্তম ও স্থায়ী।’ (সুরা ত্বাহা, আয়াত ১৩১।) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা দুনিয়াকে চাইছ; অথচ আখিরাতই উত্তম এবং চিরস্থায়ী।’ (সুরা আলা, আয়াত ১৬-১৭)

মনে রাখতে হবে, দুনিয়া বিমুখতা মানে দুনিয়া ত্যাগ করা নয়। এমনভাবে দুনিয়া ছাড়াও ইসলামে অনুমোদিত নয় যে পরিবারপরিজন, দায়িত্ব-কর্তব্য সব ভুলে গিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা যাবে। রাহবানিয়্যাত (বৈরাগ্যবাদ) ইসলামের শিক্ষা নয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন যুহদের (দুনিয়াবিমুখতা) প্রকৃত আদর্শ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াকে কখনো হৃদয়ে স্থান দেননি, কিন্তু হালাল দুনিয়া ব্যবহার করেছেন। তিনি বিবাহ করেছেন, পরিবারপরিজনের হক আদায় করেছেন, হালাল খাবার পছন্দ করেছেন, মধু, সুগন্ধি ও ঠান্ডা পানি পছন্দ করেছেন, আর না পেলে ধৈর্য ধরেছেন। অর্থাৎ হালাল দুনিয়া ব্যবহার, কিন্তু হৃদয়কে দুনিয়ার দাস না বানানো- এটাই জুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা।

সুফিয়ানে কেরাম বলেন, জুহদের রয়েছে চারটি স্তর। ১. হারাম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। ২. মাকরুহ থেকেও বেঁচে থাকা। ৩. হালাল ভোগে সীমা না ছাড়ানো। ৪. অন্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আসক্তি না রাখা। এটাই সর্বোচ্চ জুহদ। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে দুনিয়াবিমুখতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরপাতার চাটাইয়ে ঘুমাতেন, দেহে দাগ পড়ে যেত। তিনি বলতেন, ‘দুনিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী? আমি তো এক পথিক; যে গাছের নিচে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়, তারপর আবার চলতে থাকে।’ ( তিরমিযি, হাদিস ২৩৭৭।)

অন্য এক হাদিসে হজরত উমর (রা.) বলেন, একদিন তিনি দেখেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে খাবার বলতে শুধু সামান্য যব ছাড়া কিছুই নেই। রোম-ফারসি রাজারা ভোগবিলাসে মত্ত; কিন্তু আল্লাহর প্রিয় নবী দুনিয়া থেকে বিরত থাকছেন। উমর (রা.) কান্নায় ভেঙে পড়েন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে উমর! তুমি কি খুশি নও যে দুনিয়া তাদের জন্য, আর আখিরাত আমাদের জন্য?’ (মুসলিম, হাদিস ২৯৬৫)

অনুরূপভাবে ইবাদতেও তাঁর জুহদ প্রকাশ পায়। তিনি রাতে গোপনে, দিনে প্রকাশ্যে ইবাদত করতেন; তাকওয়া, দোয়া, কান্না- সবকিছুতেই ছিলেন উম্মতের জন্য উত্তম আদর্শ। আমাদের জীবনও হোক এমন- দুনিয়াকে হাতে রেখে, কিন্তু হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রেখে। আমিন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল, চরপাথালিয়া সালমান ফারসি রা. মাদ্রাসা, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ

 

বিডি প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2019 Effective News
Theme Customized By Positiveit.us