1. admin@dailybdfreepress.com : admin :
July 13, 2026, 4:03 pm
Title :
নিজেরা ঠিক না রাখলে, অন্য কেউ এদেশ ঠিক করে দেবে না: প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষা অবৈতনিক ও স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃ ত্যু বেড়ে ৫৪ বিসমিল্লাহর অনন্য সাতটি উপকারিতা জলাবদ্ধ মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সম্পদ ও সৌন্দর্যের মোহে ইসলামের সংযমনীতি আল্লাহর অস্তিত্বের সহজাত প্রমাণ মানবীয় ‘ফিতরাত’ এবার ১৮ দিনেই শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা জুলাই আন্দোলনে আহতদের সেবা দিয়েছিলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা: প্রধানমন্ত্রী শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেল যত টাকা

বিসমিল্লাহর অনন্য সাতটি উপকারিতা

  • Update Time : সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬
  • 1 Time View

বিসমিল্লাহর অনন্য সাতটি উপকারিতা

আবদুল্লাহ আলমামুন আশরাফী

 

বিসমিল্লাহ ইসলামি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুমিনমাত্রই বিসমিল্লাহর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। প্রত্যেক ভালো কাজে অবচেতন মনে মুমিনের মুখে বিসমিল্লাহ উচ্চারিত হয়।

বিসমিল্লাহ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। কাজে আত্মনিবেদিত হতে প্রেরণা জোগায়। আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বাড়ায়। জীবনকে আলোকিত করে তোলে। বিসমিল্লাহর রয়েছে অফুরন্ত বরকত। রয়েছে অনন্য উপকারিতা। আজ আমরা সাতটি উপকারিতা নিয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ।

কোরআনের অনুসরণ : কোরআনুল কারিম। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি শ্রেষ্ঠ উপহার। এর প্রতিটি সুরায় রয়েছে নূর, রয়েছে হিদায়াত। আলোয় আলোয় ভরা পবিত্র এই কিতাবের প্রতিটি সুরার শুরুতে রয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তওবা ব্যতীত বাকি ১১৩টি সুরার সূচনাই বিসমিল্লাহর মাধ্যমে। এ থেকেই বিসমিল্লাহর অনন্য উপকারী ও সুউচ্চ মর্যাদার কথা ফুটে ওঠে দিবালোকের ন্যায়।

বরকতহীনতা থেকে মুক্তি : বিসমিল্লাহ বরকতের মাধ্যম। কোনো ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে তাতে বরকতের স্পর্শ পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিলে কাজটি বরকতহীন হয়ে পড়ে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহকে স্মরণ (বিসমিল্লাহ) করে শুরু না করা হয়, তাহলে তা লেজকাটা বা বরকতহীন হয়ে যায়।’ (আল জামেউস সগীর : ৬২৬৬)।

আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা : বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ প্রতি মুহূর্তে তার জীবনের গতিবিধি একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। আর প্রতিটি কাজে আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতাই বান্দার সফলতা বয়ে আনে।

নবীদের পবিত্র অভ্যাসের অনুকরণ : বিসমিল্লাহর আমল শুধু উম্মতে মুহাম্মাদির পবিত্র বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং পূর্ববর্তী নবীদের পবিত্র জীবনাদর্শেও বিসমিল্লাহর অপরিহার্য উপস্থিতি লক্ষণীয়। পবিত্র কোরআন মাজিদে সে বিবরণ পাওয়া যায়। হজরত নূহ (আ.) মহাপ্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণকালে বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছিলেন।

ইরশাদ হয়েছে-নূহ (তাদের সবাইকে) বলল, তোমরা এ নৌকায় আরোহণ কর। এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা হুদ : ৪১)।

হজরত সুলায়মান (আ.)-এর আমল বা চিঠিপত্রও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছিল, যা আমাদের জন্য আদর্শ। ইরশাদ হয়েছে, (সাবা সম্প্রদায়ের) রানি (বিলকিস বিনতে শারাহীল) (তার দরবারের লোকদের) বলল, হে জাতির নেতৃবর্গ! আমার সামনে একটি মর্যাদাসম্পন্ন চিঠি ফেলা হয়েছে। তা এসেছে সুলাইমানের পক্ষ থেকে। তা শুরু করা হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের’ মাধ্যমে (আল্লাহর নামে, যিনি রহমান ও রাহিম।)। (সুরা নামল : ২৯-৩০)

সর্বব্যাপী আল্লাহর রহমত : ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এ পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নাম রয়েছে, যার ফলে বান্দা আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করে। আল্লাহর রহমত ও দয়া আমাদের সবারই আকাক্সিক্ষত। আমরা প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আল্লাহর দয়া ছাড়া আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই প্রতিনিয়ত বিসমিল্লাহর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশ্রয় গ্রহণ করার বিকল্প নেই।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ : ওজুর শুরুতে আমরা বিসমিল্লাহ বলি। নামাজ শুরুর প্রাক্কালে আমরা বিসমিল্লাহ বলি। পানাহারের আগেও আমরা বিসমিল্লাহ বলে থাকি। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনার পাশাপাশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও আদায় করা হয়। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নিজের অন্তরে বিনয় নম্রতা তৈরি হয়। আর আল্লাহর শোকর বা কৃতজ্ঞতা আদায় বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে। নিয়ামত বৃদ্ধি পায়।

ইরশাদ হয়েছে, স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের অবশ্যই অধিক দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সুরা ইবরাহিম : ৭)

সুসংবাদ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা : আমরা সবাই নিরাপত্তা চাই। এই নিরাপত্তা লাভের অনন্য মাধ্যম বিসমিল্লাহ। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে : বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (অর্থ : আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কারও কোনো ক্ষমতা নেই।) তখন তাকে বলা হয়, তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষা পেয়েছ ও নিরাপত্তা লাভ করেছ। সুতরাং শয়তানরা তার থেকে দূরে সরে যায় এবং অন্য এক শয়তান বলে, তুমি ওই ব্যক্তিকে কী করতে পারবে যাকে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং রক্ষা করা হয়েছে! (সুনানে আবু দাউদ- ৫০৯৫)

লেখক : খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ টঙ্গী, গাজীপুর।

বিডি-প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2019 Effective News
Theme Customized By Positiveit.us