1. admin@dailybdfreepress.com : admin :
August 15, 2026, 3:28 pm

দাম্পত্য কলহ সমাধানে ইসলামী নির্দেশনা

  • Update Time : শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
  • 0 Time View

দাম্পত্য কলহ সমাধানে ইসলামী নির্দেশনা

জান্নাতুল মাওয়া

 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক, যেমন অন্য মানুষের সঙ্গেও মতভেদ হয়। যদি তাঁরা ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে এসব মতবিরোধ সমাধান করতে পারেন, তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী ও সুখময় হয় এবং তার সুফল সন্তানদের ওপরও পড়ে।

কিন্তু যদি সমস্যাগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তবে ছোটোখাটো বিষয়ও বড় হয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে, এমনকি শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদও ঘটতে পারে।

পরিপূর্ণতা আশা করবেন না

কোনো মানুষই পরিপূর্ণ নয়। যদি আমরা আশা করি, একজন স্ত্রী চরিত্র, স্বভাব, ধর্মীয় অনুশীলন, গৃহস্থালি—সব দিক থেকেই নিখুঁত হবেন, তবে আমরা প্রায় অসম্ভব কিছু প্রত্যাশা করছি। তাই জীবনসঙ্গীর কিছু অপছন্দনীয় দিক থাকবে—এটি মেনে নেওয়া উচিত।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে সম্পূর্ণ অপছন্দ না করে। যদি তার একটি স্বভাব অপছন্দ হয়, তবে অন্য একটি স্বভাব অবশ্যই তার ভালো লাগবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৯)

কল্পিত আদর্শে গড়ার চেষ্টা করবেন না

দাম্পত্য কলহের অন্যতম কারণ হলো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুধু ত্রুটিই খুঁজতে থাকেন এবং তাঁকে নিজের কল্পিত আদর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু একজন নারী অন্য পরিবেশে, অন্য পরিবারে বড় হয়েছেন।

তাঁর নিজস্ব শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা আছে। তাই তাঁকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তুমি তাকে পুরোপুরি সোজা করতে চাও, তবে তাকে ভেঙে ফেলবে; আর তার ভেঙে যাওয়া হলো তালাক।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩৩১)

স্ত্রীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বুঝতে হবে

স্বামীকে বুঝতে হবে যে নারীর জীবনে কিছু সময় আসে—যেমন : মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থার শুরুতে, সন্তান লালন-পালনের চাপ, অসুস্থতা, পারিবারিক দুশ্চিন্তা, যা তাঁর মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহানুভূতি দেখানো উচিত।

রাগের সময় বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না

রাগের মুহূর্তে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সে সময় নিজের অহংকার ও আবেগ তাকে পরিচালিত করে। তাই তালাক বা বড় কোনো সিদ্ধান্ত রাগের সময় না নিয়ে মন শান্ত হওয়ার পর নেওয়া উচিত।

ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন

বিয়ের পর অনেক বিষয় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করলেও প্রত্যেক মানুষের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে। যেমন—ব্যক্তিগত অনুভূতি, কিছু পারিবারিক বিষয়, আর্থিক তথ্য, আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এসব বিষয়ে অযথা জোর করে জানার চেষ্টা করলে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

কোনো বিষয় ব্যক্তিগত রাখতে চাওয়া মানেই তা সন্দেহজনক—এমন ধারণা ঠিক নয়।

নতুন দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য ধরুন

বিয়ের প্রথম দিকে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ভুল পরামর্শে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। অনেকেই মনে করেন, শুরুতেই ছাড় দিলে ভবিষ্যতে সব সময় তাঁকেই ছাড় দিতে হবে। এটি ভুল ধারণা।

অন্যদের অযথা জড়াবেন না

ছোটোখাটো দাম্পত্য সমস্যা পরিবার বা আত্মীয়দের কাছে নিয়ে গেলে অনেক সময় তা আরো জটিল হয়ে যায়। কোরআনেও প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সমাধানের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরে উভয় পরিবারের একজন করে বিচক্ষণ প্রতিনিধি নিয়ে সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

ধৈর্যই সফল দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি

মতবিরোধ প্রতিরোধ ও সমাধানের সবচেয়ে বড় উপায় ধৈর্য। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি মন্দকে উত্তম আচরণের মাধ্যমে প্রতিহত করো। তখন যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা ছিল, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে। আর এই গুণ কেবল তারাই লাভ করে, যারা ধৈর্যশীল এবং যারা মহান সৌভাগ্যের অধিকারী।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৪-৩৫)

 

 

বিডি প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2019 Effective News
Theme Customized By Positiveit.us