1. admin@dailybdfreepress.com : admin :
August 12, 2026, 2:22 pm

সন্তানের জীবনে মা-বাবার দোয়ার প্রভাব

  • Update Time : বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
  • 0 Time View

প্রতীকী ছবি

 

সন্তানের জীবনে মা-বাবার দোয়ার প্রভাব

মুফতি দিদার হুসাইন

 

 

সন্তান আল্লাহ তাআলার এক মহামূল্যবান নিয়ামত ও আমানত। সন্তানকে নেককার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইসলাম যেমন সঠিক শিক্ষা, উত্তম চরিত্র ও আদর্শ পরিবেশের নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি মা-বাবার আন্তরিক দোয়াকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছে। কারণ একজন মুমিনের বিশ্বাস হলো কল্যাণের প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর তাঁর কাছেই দোয়ার মাধ্যমে সব ধরনের সফলতা কামনা করতে হয়।

সন্তানের জন্য নবীদের দোয়া

কোরআনে আল্লাহ তাআলা একাধিক স্থানে নবীদের দোয়া উল্লেখ করেছেন। ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী বানান এবং আমার সন্তানদেরও। হে আমাদের রব! আমার দোয়া কবুল করুন।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪০)

এখানে লক্ষণীয় যে ইবরাহিম (আ.) সন্তানদের জন্য ধন-সম্পদ, রাজত্ব বা পার্থিব প্রাচুর্য চাননি; বরং তাদের ঈমান, সালাত ও আল্লাহর আনুগত্য কামনা করেছেন। কারণ একজন সন্তানের প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার সাময়িক অর্জনে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানান।’ (সুরা : আল-ফুরকান, আয়াত : ৭৪)

ইমাম ইবন কাসির (রহ.) বলেন, এই আয়াতের অর্থ হলো সন্তান যেন এমন নেককার হয় যে সন্তানের একমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদত, তাঁর প্রতি ঈমান এবং আনুগত্য দেখে মা-বাবার অন্তর প্রশান্ত হয়। (তাফসির ইবন কাসির : ৬/১২৬)

মা-বাবার দোয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই-পিতার (সন্তানের জন্য) দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং মজলুমের (নির্যাতিত) দোয়া।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৪৮)

হাদিসে যদিও বিশেষভাবে পিতার কথা এসেছে, তবে আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে এর দ্বারা মায়ের দোয়াও অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা আব্দুর রহমান আল-মুবারকপুরি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে পিতার উল্লেখ করা হয়েছে মূলত অভিভাবক হিসেবে; অন্যথায় মায়ের দোয়াও সমানভাবে, বরং বেশি মমতা ও আন্তরিকতার কারণে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। (তুহফাতুল আহওয়াজি : ৫/৩৪৩)

সন্তানের জন্য নবীজি (সা.)-এর দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু দোয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করেননি, তিনি নিজেও শিশুদের জন্য দোয়া করতেন।

হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য তিনি এভাবে দোয়া করতেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি, প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং প্রত্যেক বদনজর থেকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩৭১)

এ থেকে বোঝা যায়, সন্তানের জন্য দোয়া করা শুধু একটি ভালো অভ্যাস নয়; এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ।

সন্তানের বিরুদ্ধে বদদোয়া না করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সন্তানদের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া কোরো না। এমন সময়ে তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যেতে পারে, যখন দোয়া কবুল করা হয়; ফলে তা কবুল হয়ে যাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩০০৯)

মা-বাবার মধ্যে অনেকের একটি বড় ভুল হলো সন্তানদের কোনো আচরণে রাগান্বিত হলে তাঁরা তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে বসেন। অথচ তাঁদের উচিত সন্তানের জন্য হেদায়েতের দোয়া করা এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যে তিনি যেন তাদের সংশোধন করে দেন এবং সঠিক পথের প্রেরণা দান করেন।

আপনি কেন সন্তানের জন্য দোয়া করবেন?

আজকের পৃথিবীতে সন্তানরা নাস্তিক্যবাদ, অশ্লীলতা, মাদক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং নানামুখী ফিতনার মুখোমুখি। এসব বিপদ থেকে শুধু পার্থিব শিক্ষা দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন আল্লাহর বিশেষ হেফাজত। তাই একজন মা যখন সন্তানের জন্য অশ্রুসিক্ত দোয়া করেন কিংবা একজন বাবা সন্তানের ঈমান, হেদায়েত ও নেক জীবনের জন্য প্রার্থনা করেন, তখন সেই দোয়া সন্তানের জন্য রহমত, হেদায়েত ও বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। অনেক সময় এমন একটি আন্তরিক দোয়াই সন্তানের জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

বিডি প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2019 Effective News
Theme Customized By Positiveit.us